সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে
সতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।........
বাংলা সাহিত্যের এমন সব ছন্দের মিলবন্ধন করেছিলেন মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
আর আমরা এখন অবস্থান সাগরদাড়িতে। মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের প্রত্যেক ভিটেতে।
এই সাগরদাঁড়ি অবস্থিত যশোরের জেলার অন্তর্গত কেশবপুর থানাই।
মধুসূদন দত্তের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন তখনকার একজন জমিদার। বিশাল জায়গা জুড়ে থাকা জমিদার বাড়িতে এখনো তার জ্বলসের প্রমাণ দিচ্ছে।
সাগরদাড়ির এ বাড়িতেই মধুসূদন দত্তের ছেলেবেলা কাটে। বাড়িটির পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে সাহিত্যের বিখ্যাত সেই কপোতাক্ষ নদ। অসংখ্য কবি সাহিত্যিকদের লেখায় পাওয়া যায় এ নদের কথা। যাকে এক নজর দেখলেই তার সৌন্দর্যের প্রেমে পড়ে যাবে তুমি। তবে কালের পরিক্রমায় তার জৌলুস হারাচ্ছে এই নদ।।
এটা জমিদার বাড়ির পেছনের অংশ। ১৯৬৫ সালে তখনকার সরকার এ বাড়িটি কে পুরাকৃতি হিসেবে ঘোষণা করে। কথিত আছে যে,
১৯৬৮ সালে কবি যখন সপরিবারে ফিরে আসে এখানে, ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার জ্ঞাতিরা এ বাড়িতে উঠতে দেয়নি তাদের।
এ বাড়িটিতে রয়েছে একটি লাইব্রেরী। কবির ব্যবহার্য কিছু আসবাব এবং স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটা জাদুঘর। প্রতিদিন শত শত ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সে এখানে ভিড় জমায়।
জাদুঘরের গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই এমন একটা ফাঁকা জায়গা আপনাদের চোখে পড়বে।
চলুন দেখে আসা যাওয়া জাদুঘরের ভেতরে কি কি রাখা আছে -
এগুলো হলো তখনকার সময়ের পাথরের তৈরি থালা।
এগুলো বিভিন্ন যন্ত্রের খন্ডাংস।
এটা হল তখনকার সময়ে জনপ্রিয় কলের গান। টিফিন বক্স।
বিভিন্ন সময়ে কবি নিজের হাতে লেখা কবিতা।
কাঠের তৈরি সিন্দুক।
কবির বাড়িটি এখন মধু পল্লী হিসেবেই পরিচিত।
মধু পল্লীতে প্রতিবছর কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মেলার আয়োজন করা হয়। আর কিছুদিন পরই ২৫ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হয়ে চলবে সাত দিনব্যাপী। জীবনে একবার হলেও মধুমেলায় ঘুরতে আসবেন সময় ভালো কাটবে।